স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম. এ. মুহিত বলেছেন, বিরোধী দল স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারের কথা শুধু সেই সংস্কারের প্রেক্ষিতে বলে, যা তাদের ক্ষমতার ভাগ নিশ্চিত করবে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যখাতের কার্যকর সংস্কার নিয়ে বিরোধী দল আজ পর্যন্ত একদিনও আলোচনা করেনি।
রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনার সময় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।
ডা. মুহিত বলেন, “স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হলো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা এবং একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পাবেন।” তিনি জানান, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করে ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে, যা হাসপাতাল নির্মাণ বা সাময়িক সেবার উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের গড় আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণে মানুষের জীবনহানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও, দ্রুত নগরায়ণ, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং মহামারি ঝুঁকি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
চিকিৎসা ব্যয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই রোগীদের পকেট থেকে বহন করতে হয়। তুলনামূলকভাবে থাইল্যান্ডে এ হার ১০ শতাংশ, মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ। প্রতিমন্ত্রী জানান, লক্ষ্য হচ্ছে চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা।
ডা. মুহিত বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাজেট প্রণয়ন হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানবসম্পদ বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শহর ও গ্রামের মানুষ সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
এই বাজেট স্বাস্থ্য খাতে রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উপর জোর দেয়, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের সুস্থতা ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়।