বিরোধী দলীয় জোট জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেছে ন্যায্য সময় না দেওয়া, বিল পাসের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অফ অর্ডারে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগে। রোববার (২৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সাধারণ আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী সদস্যদের জন্য বরাদ্দ ২৬ শতাংশ সময় যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে না। এই কারণে তারা ক্ষুব্ধ এবং অবাধে বক্তব্য দিতে পারছেন না।
নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, নতুন বিল সংসদে আনার সময় প্রপার প্রসিজার বা সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। এছাড়া, বিরোধী সদস্যদের পয়েন্ট অফ অর্ডারে কথা বলার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অন্যান্যদের পয়েন্ট অফ অর্ডারে কথা বলা বন্ধ করা হয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ না থাকলে হাউসের ভেতরে বসে থাকার কোনো মানে নেই। এই বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদেই বিরোধী জোট সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন।
সংসদে ওয়াক আউটের ঘটনাটি রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। বিরোধী দলের দাবি, অধিবেশন পরিচালনার নিয়ম এবং সদস্যদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এখনো কিছু ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ পরিচালনার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ওয়াক আউটের ফলে বাজেট সংক্রান্ত আলোচনায় বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে আগামী দিনে বাজেট পাসের প্রক্রিয়া ও সংসদীয় আলোচনার স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংসদীয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বিরোধী দলের অধিকার রক্ষার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।