বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে করা চুক্তিতে ‘সভেরেন গ্যারান্টি’ বা রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকায় এসব চুক্তি বাতিল করতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পূর্ববর্তী সময়ে করা চুক্তিতে রাষ্ট্রের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। এই গ্যারান্টি বাতিল করা সহজ নয় এবং এর জন্য সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। বিশেষ করে বিলম্ব ফি বা লেট পেমেন্ট ফি কমানো বা না দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে হঠাৎ করে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দর-কষাকষির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম কমানোর চেষ্টা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম মূল্যে বিদ্যুৎ পেতে পারে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন, ২০১০-এর আওতায় হওয়া বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটিগুলো প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি নেই। দুটি কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে এবং এসব কেন্দ্রের জন্য বর্তমানে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে না।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ ঘাটতির কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও এখনো তা বিপিসির জন্য লোকসানের কারণ হয়ে আছে। গত মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমলে দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্য কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।