চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই। সোমবার ভোররাত ৪টা ১৫ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আসছিলেন। ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কয়েকদিন আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। ভোররাতের ওই সময়ে তিনি মারা যান।
নাহিয়ান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ভাতিজা, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আজ রাত ১০টায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভারলি হিল সোসাইটিতে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল সকাল ১১টায় চন্দনাইশের কাঞ্চনাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি চন্দনাইশ-সাতকানিয়া অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সংসদে তার উপস্থিতি ও ভূমিকা, বিশেষ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে, যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজে তার অবদান স্থানীয় জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশংসিত ছিল। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেশের মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের গঠন ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
নজরুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার সেবামূলক কর্মকাণ্ড ও সমাজকল্যাণে তার অবদান স্মরণীয় থাকবে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতারা একযোগে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
প্রধান শোক প্রকাশ এবং জানাজার আয়োজনের মাধ্যমে তার পরিবার, সমর্থক ও স্থানীয় জনগণ শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। নজরুল ইসলাম চৌধুরীর জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখেছে।