সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্য আয়োজিত একটি বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দলের ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় বলেন, দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ঐক্য নষ্ট হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিপদ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, “ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা গুপ্তচররা সুবিধা নিতে পারবে না, কিন্তু ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে।”
প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১৭ বছরে দল কঠোর নির্যাতন, গুম ও হত্যার মুখে পড়েও একত্রিত ছিল। ব্যক্তিগত স্বার্থের তুলনায় দলকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা সংগ্রাম করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেন, “এখন যখন নির্যাতনের ভয় নেই, তখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারব না?”
সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনে দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জয় নিশ্চিত করা গেছে, সেই অভিজ্ঞতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া তিনি হাইব্রিড ও গুপ্ত এলিমেন্ট নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন, যাতে তারা নেতৃত্বে প্রবেশ করতে না পারে।
প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন বড় ধর্মীয় উৎসবকে সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করার জন্য নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশ দেন। তিনি জানান, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে উৎসবকে ব্যাহত করতে না পারে, সে দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
সভায় তিনি বিগত সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। পদ্মা সেতুর উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পের জন্য ৫৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, অথচ সমান দৈর্ঘ্যের ভূপেন হাজারিকা সেতু মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকার ফ্লাইওভার নির্মাণে ড্রেন ও খাল ভরাট করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে।
উন্নয়নের নতুন রূপরেখা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলার ৩১ শয্যার হাসপাতাল শুরু করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তা ৫১ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন, আর বর্তমান সরকার তা ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ করছে। এছাড়া সারাদেশে ১ হাজার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষের ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষিত যুবসমাজ বেকার হয়ে পড়েছে, তবে সরকারের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছেন।
শেষে নেতাকর্মীদের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি পরিবারের সবাই মিলে যদি ঘর নোংরা করে, একজনের পক্ষে তা পরিষ্কার করা অসম্ভব। দেশের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আপনাদের দায়িত্বশীল ও সংযতভাবে কাজ করতে হবে।”
সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।