জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছেন, দেশে এত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হলেও তাদের যথাযথ চাকরির ব্যবস্থা না হলে বেকারত্ব আরও বাড়বে। শুক্রবার (২৬ জুন) এনডিইএ-এর উদ্যোগে বেসরকারি খাতে প্রকৌশলী ও চাকরিজীবীদের জন্য ন্যায্য পে-স্কেল দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হান্নান মাসউদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় তিন লাখ মাদরাসা শিক্ষক এখনও বেতন পাচ্ছেন না। পাশাপাশি তেল ও গ্যাসের দাম তিনগুণ বেড়েছে এবং মাত্র তিন মাসের মধ্যে সাতশো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে কর্মক্ষম বা চাকরিজীবীর সংখ্যা ৭ কোটি ৭৫ লাখ, যার মধ্যে বেসরকারি খাতে কর্মরত রয়েছেন ৫ কোটি। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও শুধুমাত্র সরকারি চাকরিজীবীর জন্য, বেসরকারি চাকরিজীবীদের তা প্রযোজ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। নতুন বাজেটে প্রতিটি উপজেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা থাকলেও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও ভিসি নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ৩০ লাখের বেশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন, কিন্তু সরকারি চাকরির সুযোগ সীমিত। ফলে এত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হলেও চাকরির ব্যবস্থা না হলে শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, উচ্চশিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগাতে রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেকারত্ব কমাতে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত নীতি অপরিহার্য। পেশাজীবী তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি না হলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও প্রভাবিত হবে।
এই সংবাদ থেকে বোঝা যাচ্ছে, শিক্ষিত জনশক্তি দেশের অর্থনীতি ও প্রগতি নিশ্চিত করতে সক্ষম, তবে সরকারী পরিকল্পনা এবং নীতিমালা না থাকলে তাদের সঠিক ব্যবহার সম্ভব হবে না।