শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অতীতে যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সুবিধা নিয়েছে, তারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর এখন বিএনপি সাজছে। রবিবার (২৮ জুন) সিলেট শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের কেন্দ্র প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
সভায় মন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নকল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং সিসিক্যামের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো ডিজিটালি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং আগামী ২ জুলাই শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিগত সরকারের সময়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।
কারিগরি শিক্ষা প্রসঙ্গেও মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে টিভিইটি (টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং) যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড একসঙ্গে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারলে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডও অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যুক্ত হবে।
মিলন আরও বলেন, অতীতে শিক্ষার্থীরা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু এখন শিক্ষার সঠিক মান নিশ্চিত করতে নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ব্যবস্থা শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি বাড়াবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুষ্ঠু ও ন্যায্য পরীক্ষা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সরকারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে, এবং শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী করা হবে।