স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে লোপাট হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজনৈতিক চাঁদাবাজিতে ২৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা) হয়েছে, যা ব্যবহার করলে ১৪টি মেট্রোরেল এবং ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল ‘লিজিসলেটিভ ম্যানিপুলেটেড করাপশন’, অর্থাৎ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারি টাকা দফায় দফায় লোপাট করা হয়েছে। কুইক রেন্টাল ইনডেমনিটি বা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের পকেট কাটা হয়েছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়ের সব কর্মকাণ্ডের তদন্ত করার নির্দেশনা দিতে। মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো কলঙ্ক নিয়ে চলতে চাই না। দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিন যাতে এ সময়ের সবকিছু পর্যালোচনা হয়। প্রতিটি অভিযোগ যাচাই হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাজেটকে ‘নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষকের ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বাজেট শুধু টিকে থাকার জন্য নয়, বরং একটি স্মার্ট ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি তৈরি করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যেও সাহসী বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। বাজেটের বিনিয়োগ দারিদ্র্য বিমোচন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।