কর্মঘণ্টার বাইরে রাতে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনা অনুসন্ধানে ব্যাংকটির ১৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৪ আগস্ট তাঁদের সশরীরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি জানা যায়।
তলব করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা ও বনানী শাখার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কোম্পানি সেক্রেটারি, নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
দুদক সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা থেকে রাত ৮টার পর ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা নগদ লেনদেন করা হয়। কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার পর এত বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে।
ওই অর্থ ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্ণধার আলী হায়দার রতনকে দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই দিন বিকেলে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিষ্ঠানটির ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।
অনুমোদনের সিদ্ধান্ত সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে গুলশান করপোরেট শাখায় পাঠানো হয়। এরপর রাত ৮টা ২৩ মিনিট থেকে ৯টা ৪ মিনিটের মধ্যে অর্থ উত্তোলন করা হয়।
এর আগে ব্যাংকের পর্ষদের ৪৭৫তম সভায় ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ঋণ নবায়নের প্রস্তাব ওঠে। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটির নামে সীমাতিরিক্ত ৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ঋণপত্র খোলা হয়েছিল। অন্য একটি ব্যাংকেও প্রতিষ্ঠানটির ঋণ খেলাপি অবস্থায় ছিল।
ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর গ্রাহক ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ পান। তবে কর্মঘণ্টার বাইরে এই অর্থ ছাড় এবং উত্তোলনের প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে।
পরে হাইকোর্ট ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপককে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে তলব করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অনুমোদন, প্রক্রিয়া এবং দায় নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।